এআই ইতিমধ্যেই বিশ্বের কার্যপ্রণালী বদলে দিচ্ছে , কিন্তু এটি নীরবে আমাদের অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যাকে আরও গুরুতর করে তুলছে। এবং না, এবারের বিষয়টি শক্তি খরচ নিয়ে নয়। এটি হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত। কারণ প্রতিটি উন্নততর এআই মডেলের একটি ভৌত মূল্য রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ই-বর্জ্য সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলতে চলেছে।
নেচার কম্পিউটেশনাল সায়েন্স- এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে ( রেস্ট অফ ওয়ার্ল্ড-এর মাধ্যমে), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উত্থানের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১.২ থেকে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য যুক্ত হতে পারে। এর কারণটি বেশ সহজ। এআই জিপিইউ (GPU) এবং বিশেষায়িত সার্ভারের মতো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন হার্ডওয়্যারের উপর নির্ভর করে, এবং এগুলো খুব বেশিদিন টেকে না। এই সরঞ্জামগুলোর বেশিরভাগই প্রতি ২ থেকে ৫ বছরে প্রতিস্থাপন করা হয়, যার অর্থ হলো নতুন ও দ্রুততর সিস্টেম আসার সাথে সাথে পুরোনো হার্ডওয়্যার দ্রুত বাতিল হয়ে যায়।
আর এটা ব্যাপক আকারেই ঘটছে। কোম্পানিগুলো যখন আরও বড় ডেটা সেন্টার তৈরি করতে এবং আরও শক্তিশালী মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রতিযোগিতায় নামছে, তখন হার্ডওয়্যারের চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে, আর তার সাথে সাথে পড়ে থাকা অচল মেশিনের স্তূপও বাড়ছে।
এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
ই-বর্জ্য ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বর্জ্য প্রবাহে পরিণত হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। আর সবচেয়ে খারাপ দিকটি হলো? এর একটি বড় অংশ সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয় না। অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনার ফলে সীসা এবং পারদের মতো বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশে নির্গত হতে পারে, যা বাস্তুতন্ত্র এবং মানব স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। আর অস্বস্তিকর সত্যটি হলো: এই বর্জ্যের বেশিরভাগই নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে গিয়ে জমা হয়, যেখানে প্রায়শই অনিরাপদ পরিবেশে পুনর্ব্যবহারের কাজটি সম্পন্ন হয়। এর অর্থ হলো, যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সুবিধাগুলো বিশ্বব্যাপী, কিন্তু এর পরিবেশগত মূল্য সমানভাবে বণ্টিত নয়।
শেষ পর্যন্ত, এআই-কে একটি নিছক ডিজিটাল বিপ্লব বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আড়ালে, এটি একটি অত্যন্ত বাস্তব ও ভৌত পদচিহ্ন তৈরি করছে। এবং যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তবে সেই পদচিহ্ন কেবল বাড়তেই থাকবে।
