বন্যপ্রাণী শনাক্তকরণে এক বিরাট উন্নতি ঘটেছে, এবং তা আসছে মহাকাশ থেকে।

নামিবিয়ার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলোতে অসাধারণ কিছু একটা ঘটছে। ইকারাস নামের একটি স্যাটেলাইট সিস্টেম প্রাণীদের আতঙ্কিত হওয়া পর্যবেক্ষণ করছে, এবং এটিই হয়তো বিজ্ঞানীদের তৈরি করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী চোরাশিকার-বিরোধী হাতিয়ার।

এর কারণ বুঝতে হলে, আপনাকে চোরাশিকারের মহামারীটি বুঝতে হবে। গত ১৫ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০,০০০-এরও বেশি গণ্ডার চোরাশিকার করা হয়েছে এবং এই চোরাশিকার সংকট কমার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বনরক্ষীদের সংখ্যা কম, সংরক্ষিত এলাকাগুলো বিশাল, এবং পার্কে কোনো চোরাশিকারি ঢুকে পড়েছে—এটা কেউ বুঝতে পারার আগেই প্রায়শই অনেক দেরি হয়ে যায়।

বিবিসির একটি নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ অ্যানিমেল বিহেভিয়রের বিজ্ঞানীরা একটি অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছেন। আরও প্রহরী বা ক্যামেরা যুক্ত করার পরিবর্তে, প্রাণীদের দিয়েই পর্যবেক্ষণের কাজটি করানো যায় না কেন?

প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে?

যখনই ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে কোনো হুমকি আসে, প্রাণীরা অনুমানযোগ্য উপায়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই আতঙ্কের চিহ্নগুলো নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করার জন্য দলটির বাস্তব তথ্যের প্রয়োজন ছিল, যার জন্য নামিবিয়ার একটি ব্যক্তিগত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ওকাম্বারাতে চোরা শিকারের ঘটনাগুলোর অনুকরণ করতে হয়েছিল।

সশস্ত্র শিকারিরা ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং বাতাসে গুলি ছুড়ছিল, আর ড্রোনগুলো প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীর প্রতিক্রিয়া নিখুঁতভাবে রেকর্ড করছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রাণীগুলোকে আঘাত করা নয়, বরং কোনো চোরাশিকারি কাছে আসছে দেখে ভয় পেলে তাদের প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করা।

এর লক্ষ্য হলো এই আতঙ্কের ধরণগুলো ব্যবহার করে এমন একটি অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দেওয়া , যা বনরক্ষীদের কাছে রিয়েল-টাইম সতর্কতা পাঠাবে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের প্রধান এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গতিবিধি বাস্তুবিদ মার্টিন উইকেলস্কির মতে, এমনকি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত প্রাণীগুলোও এই ব্যবস্থায় কাজে লাগে। উদাহরণস্বরূপ, জিরাফেরা দৌড়ায় না। তারা শুধু সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে, সব মাথা একই দিকে তাক করে, নিরাপদ দূরত্ব থেকে বিপদ পর্যবেক্ষণ করে। উইকেলস্কি বলেন, “ফলে আমরা জানতে পারি কসাই কোথায় আছে।”

এই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বন্যপ্রাণীর গতিবিধি ট্র্যাক করার ট্যাগ। এগুলো জিপিএস অবস্থান, কার্যকলাপ, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ট্র্যাক করে। এর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ১ লক্ষ প্রাণীকে ট্যাগ করা, যার প্রতিটি একটি বৈশ্বিক আগাম সতর্কীকরণ নেটওয়ার্কে বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে।

এটা কি আসলেই চোরাশিকার বন্ধ করতে পারে?

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে এই ব্যবস্থাটি ইতোমধ্যে ৮০টি বুনো কুকুরকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু রিয়েল-টাইম চোরাশিকারি শনাক্তকরণ এখনও একটি চলমান প্রক্রিয়া। নভেম্বরে, ইকারাস তার প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে আরও পাঁচটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হলে, পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে প্রাণীদের চলাচলের রিয়েল-টাইম তথ্য গ্রহণ করতে পারবে, যা চোরাশিকারিদের জন্য আড়ালে থেকে কাজ করা আগের চেয়েও কঠিন করে তুলবে।