শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগের সমস্যা সমাধানে স্কুলগুলো ভিআর হেডসেট ব্যবহার করছে।

লন্ডনের সাটন বরোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপ, এডিএইচডি এবং কঠিন পারিবারিক জীবন সামলাতে সাহায্য করার জন্য ভিআর হেডসেট ব্যবহার করছে। হেডসেটগুলো তৈরি করছে প্রযুক্তি সংস্থা ফেজ স্পেস এবং বিদ্যালয়গুলো স্থানীয় এনএইচএস মানসিক স্বাস্থ্য ট্রাস্টের সাথে যৌথভাবে এই পাইলট প্রকল্পটি চালাচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুসারে, সাত মিনিটের এই ভিআর প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের দ্রুত মানসিক প্রশান্তি দেয়, যা নির্ধারিত সময়ে অথবা উদ্বেগের কারণে ক্লাস থেকে বিরতি নেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা যায়।

প্রোগ্রামটির সহ-নির্মাতা এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং প্রফেসর জিলা ওয়াটসনের মতে, প্রতি ১০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৯ জনেরই উন্নতি হয়েছে, যার ফলে তাদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমেছে।

ভিআর-এ সাত মিনিট কাটালে কি আসলেই কোনো পার্থক্য হয়?

ওয়াটসন, যিনি বিবিসির ভিআর বিভাগের প্রাক্তন প্রধানও, বিশেষভাবে অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রামটি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আচরণে উন্নতি হয়েছে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত উদ্বেগ কমেছে।

ষোল বছর বয়সী লোরা উইলসন তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন: প্রোগ্রামটি একটি খালি ঘরে শুরু হয়, যেখানে আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসে এবং একসময় মনে হয় যেন আপনি সম্পূর্ণ অন্য কোনো জায়গায় চলে এসেছেন। “পরীক্ষা আমাকে আতঙ্কিত করত। এখন আর আগের মতো ভয় লাগে না,” সে বলল।

শিক্ষকরা কী মনে করেন?

উত্তর লন্ডনের আর্ক একাডেমির উপাধ্যক্ষ এলিশা নিডহ্যাম বলেন, তারা মূলত সকালে হেডসেটগুলো ব্যবহার করেন, যখন বাড়িতে কোনো গোলযোগ বা স্কুলের স্বাভাবিক রুটিনে পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে স্কুলে আসে। হেডসেটগুলো চালু করার পর থেকে স্কুলটিতে কম সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

“শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি শান্ত,” তিনি বললেন। শিক্ষার্থীরা এখন অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে শুধু ক্লাস থেকে বেরিয়ে না গিয়ে, নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রোগ্রামটি ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করে।

এটি একটি সত্যিই অভিনব ধারণা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভিআর প্রযুক্তির অন্যতম সেরা প্রয়োগ। বর্তমানে এটি ১৫টি স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। যদি এই প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে এবং শত শত স্কুলে পুনরাবৃত্তি করা যায়, তবে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার আগেই পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য ভিআর হেডসেট একটি স্বল্প খরচের ও কার্যকর উপায় হয়ে উঠতে পারে।