বছরের পর বছর ধরে, স্মার্টফোনজনিত মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে স্ক্রিন টাইমকেই গণ্য করা হয়ে আসছে। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে যে, আমরা ভুল পরিমাপকটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।
আল্টো ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, তথ্যের অতিরিক্ত চাপের প্রধান কারণ ঘন ঘন ও খণ্ডিত ফোন ব্যবহার, মোট স্ক্রিন টাইম নয়।
সুতরাং, ঘণ্টার সংখ্যাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আপনি কত ঘন ঘন নিজের কাজে বাধা দেন, সেটাই আসল।
আপনার ফোন চেক করতে সমস্যাটা কী?
এই গবেষণায় বেশ কয়েক মাস ধরে প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণকারীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যেখানে ব্যবহারের তথ্যের সাথে তাদের নিজেদের জানানো মানসিক চাপের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই সময়ে যা বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল তা অতিরিক্ত ব্যবহার নয়। বরং, যেসব ব্যবহারকারী অল্প সময়ের জন্য বারবার ফোন হাতে তুলে নেন, তারা উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন।
দ্রুত কিছু দেখে নেওয়া, অ্যাপ পরিবর্তন করা এবং সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মতো এই ধরনের আচরণ ক্রমাগত বাধার একটি ধারা তৈরি করে। তাই দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন সেশনের তুলনায় এটি মানসিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর বলে মনে হয়।
কেন এটি দীর্ঘ ব্যবহারের চেয়েও বেশি তীব্র প্রভাব ফেলে
এখানে মূল বিষয়টি হলো মনোযোগ।
প্রতিবার যখন আপনি আপনার ফোন দেখেন, আপনার মস্তিষ্ককে মনোযোগ পরিবর্তন করতে, নতুন তথ্য প্রক্রিয়া করতে এবং আগে যা করছিলেন তাতে পুনরায় মনোনিবেশ করতে হয়। দিনে কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত বার এমনটা করলে, মানসিক চাপ বাড়তে শুরু করে।
গবেষণাটি একে খণ্ডিত ব্যবহার বলে অভিহিত করে, যা থেকে বোঝা যায় যে এই ধরনটিই অভিভূত হওয়ার অনুভূতির জন্ম দেয়।
এটি ফোন ব্যবহারের অভ্যাস সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনা বদলে দেয়।
ডিজিটাল সুস্থতা নিয়ে কথা বলার সময় সবচেয়ে প্রচলিত উত্তর হলো স্ক্রিন টাইম কমানো। কিন্তু এই গবেষণাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করছে। যে ব্যক্তি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে একটি ভিডিও দেখে, সে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির চেয়ে কম মানসিক চাপে ভোগে, যে প্রতি কয়েক মিনিট পর পর তার ফোন দেখে।
