নতুন চিপ ও আরও উন্নত ক্যামেরা নিয়ে এসে গেছে স্যামসাং-এর গ্যালাক্সি এ৫৭ ও এ৩৭।

স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যালাক্সি এ৫৭ এবং গ্যালাক্সি এ৩৭ উন্মোচন করেছে। মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে, এই দুটি ফোনে পরিচিত হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেডও রয়েছে।

বড় কোনো পরিবর্তন না এনে, ডিভাইস দুটি একটি পরীক্ষিত ও প্রমাণিত পদ্ধতি অনুসরণ করার পাশাপাশি পারফরম্যান্স, ক্যামেরার উন্নতি এবং স্থায়িত্বের মতো কিছু দিককে নতুনত্ব দিয়েছে।

নতুন কী আছে এবং কী উন্নত হয়েছে?

সবচেয়ে বড় আপডেটগুলোর একটি এসেছে এর অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিতে। গ্যালাক্সি এ৫৭ এখন এক্সিনোস ১৬৮০ চিপসেট দ্বারা চালিত, যেখানে গ্যালাক্সি এ৩৭ চলে এক্সিনোস ১৪৮০ চিপে, যা পারফরম্যান্স এবং কার্যকারিতায় একটি লক্ষণীয় উন্নতি এনেছে। এই চিপগুলো ৪ ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ায় তৈরি, যার ফলে পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় আরও ভালো পাওয়ার এফিশিয়েন্সি এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রে, স্যামসাং প্রায় একই ধরনের সেটআপ ব্যবহার করছে, যেখানে রয়েছে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা, একটি ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স (A37 মডেলে যা ছিল ৮ মেগাপিক্সেল) এবং একটি ৫ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো শুটার। তবে এই বছর মূল লক্ষ্য হলো কম আলোতে আরও ভালো ছবি তোলা, বিশেষ করে রাতের ছবি এবং সার্বিক ইমেজ প্রসেসিং-এর উন্নতি। তাই হার্ডওয়্যার একই থাকা সত্ত্বেও, আরও ভালো ফলাফল দেওয়ার জন্য স্যামসাং যে সফটওয়্যার এবং এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করছে, তা স্পষ্ট।

পরিচিত সেটআপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা

কোম্পানিটি পুরোনো মডেলগুলোতে যা সফল হয়েছিল, তাতেই অটল থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সহ উজ্জ্বল ৬.৭-ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড এফএইচডি+ ডিসপ্লে।
  • ৪৫ ওয়াট তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং সহ ৫,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি প্যাক
  • ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার।

এখনও ওয়্যারলেস চার্জিং বা জুম করা ছবি তোলার জন্য কোনো বিশেষ লেন্স নেই।

তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হার্ডওয়্যার নয় — বরং এর দীর্ঘস্থায়িত্ব।

উভয় মডেলেই আগে থেকেই অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ওএস ভিত্তিক ওয়ান ইউআই ৮.৫ কাস্টম স্কিন দেওয়া থাকে এবং স্যামসাং ছয় বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট ও সিকিউরিটি প্যাচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টের জন্য এটি একটি বড় ব্যাপার, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারযোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ফোনই সাধারণত এই সেগমেন্টে পিছিয়ে থাকে।

Galaxy A57 ফোনটি Awesome Navy, Awesome Icyblue, এবং Awesome Lilac রঙে পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রারম্ভিক মূল্য $549.99। অন্যদিকে, Galaxy A37 ফোনটি Awesome Lavender, Awesome Charcoal, এবং Awesome Graygreen রঙে $449.99 মূল্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।