গুগল ভয়েস ও ক্যামেরা এআই-এর সাহায্যে বিশ্বব্যাপী সার্চ লাইভ প্রসারিত করছে

সার্চকে একটি পূর্ণাঙ্গ এআই অ্যাসিস্ট্যান্টে পরিণত করার দিকে গুগল আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাপী ‘সার্চ লাইভ’ সম্প্রসারিত করেছে , যার ফলে এই ফিচারটি ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে উপলব্ধ হয়েছে এবং এর সাথে কয়েক ডজন ভাষার সমর্থনও যুক্ত হয়েছে।

মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু হওয়া সার্চ লাইভ হলো গুগলের একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য হলো সার্চকে আরও বেশি কথোপকথনমূলক, ইন্টারেক্টিভ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, হ্যান্ডস-ফ্রি করে তোলা।

গুগল সার্চ লাইভ আসলে কী?

এটিকে গুগল সার্চ হিসেবে ভাবুন… কিন্তু আপনি এর সাথে কথা বলতে পারবেন। সার্চ লাইভ ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মেই গুগল অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস বা এমনকি ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয় এবং এর বিনিময়ে তারা প্রাসঙ্গিক ওয়েব লিঙ্কসহ মৌখিক উত্তর পান।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার ফোনটি কোনো কিছুর দিকে, ধরুন একটি ভাঙা তাকের দিকে, তাক করে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে এটি কীভাবে ঠিক করতে হবে। এআই (AI) যা দেখছে তা বিশ্লেষণ করবে এবং রিয়েল টাইমে উত্তর দেবে, ফলে এটিকে একটি জিজ্ঞাসার চেয়ে কথোপকথনের মতো বেশি মনে হবে। এই ফিচারটি গুগলের জেমিনি ৩.১ ফ্ল্যাশ মডেল দ্বারা চালিত, যা দ্রুততর, আরও স্বাভাবিক এবং বহুভাষিক যোগাযোগের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

তাহলে… সার্চ বার কি আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবার্তা পেল?

এটি একটি বেশ বড় পরিবর্তন। গুগল শুধু সার্চেরই উন্নতি করছে না, বরং ধীরে ধীরে সেই ‘টাইপ ও স্ক্রল’ করার পুরোনো অভিজ্ঞতাটিও বদলে দিচ্ছে। সার্চ লাইভের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কথা বলতে, পরবর্তী প্রশ্ন করতে এবং স্বাভাবিকভাবে ভাব বিনিময় করতে পারেন, যা এটিকে একটি অনুসন্ধানের চেয়ে কথোপকথনের মতো করে তোলে। এটি মূলত চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-এর মতো মিথস্ক্রিয়া , কিন্তু এটি সরাসরি গুগল সার্চের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।

এটি বিষয়টিকে মাল্টিমোডাল ক্ষেত্রেও নিয়ে যায়, যেখানে কণ্ঠস্বর, দৃশ্য এবং প্রেক্ষাপট—সবকিছু একসাথে কাজ করে। আপনি গুগল অ্যাপের মাধ্যমে এতে যুক্ত হতে পারেন অথবা লেন্সের মাধ্যমে এটি চালু করতে পারেন, যা এটিকে একটি নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা দেয়। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, এটি ‘সার্চ’ শব্দটির অর্থকেই বদলে দেবে। এটি এমন এক সহকারী হয়ে উঠছে যা রিয়েল টাইমে বোঝে এবং সাড়া দেয়। আর এখন যেহেতু এটি বিশ্বব্যাপী চালু হচ্ছে, এটি আর কোনো পরীক্ষা নয়… এটাই নতুন স্বাভাবিকতা।