নাসার আর্টেমিস ২ মিশনটি কয়েক দশকের মধ্যে মহাকাশযাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক। মহাকাশে নভোচারীদের যাত্রার পুরোনো ক্লিপগুলো দেখলে এক ধরনের নস্টালজিক অনুভূতি হয়, কিন্তু ক্যাপসুল থেকে আসা প্রথম ভিডিওগুলোতে অনেক বেশি পরিচিত একটি আবহ রয়েছে। ওরিয়নের ভেতরে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে ক্রুদের আইফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়, যা এই ঐতিহাসিক মিশনটিকে এক অদ্ভুত আধুনিক অনুভূতি দেয়।
এই বৈপরীত্যই ফুটেজটিকে এত স্বতন্ত্র করে তুলেছে। আর্টেমিস ২ হলো ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতোমধ্যেই ব্যবহার করে এমন একটি গ্যাজেট বেছে নেওয়াটা একটি সহজবোধ্য বিষয়।
আইফোনটি লক্ষ্য নয়, কিন্তু এটিই মুহূর্ত।
ক্লিপগুলো নিজে থেকে নাসার কোনো বিশাল চমক নয়। এগুলো হলো নভোচারীদের মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবেই, ভাসমান বস্তুর পদার্থবিদ্যা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার কিছু সংক্ষিপ্ত ঝলক। কিন্তু কেবিনের মধ্যে একটি আইফোনকে ভেসে বেড়াতে দেখামাত্রই পুরো ব্যাপারটিকে আর বিমূর্ত মনে হয় না।
ককপিটের উপর ভেসে থাকা একটি আইফোন মিশনের সমস্ত প্রতীকচিহ্ন এবং নাসার বিশাল কন্ট্রোল প্যানেলগুলোকে ছাপিয়ে যায়। আর সত্যি বলতে, এটা এর আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।
২০২৬ সালের বিবরণসহ ঐতিহাসিক ফ্লাইট
আর্টেমিস ২ মহাকাশযানটি ১লা এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযানে চারজন ক্রু সদস্যকে নিয়ে প্রায় ১০ দিনের জন্য চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই ক্রুতে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। অ্যাপোলোর পর এটিই পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে নাসার প্রথম মানববাহী যাত্রা।
আবারও ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। আর এর একটি ক্ষুদ্র অংশ হলো আইফোন, যা দিয়ে খুব কাছ থেকে চাঁদের ছবি তোলা হবে।
চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের আইফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখাটা অদ্ভুতভাবে বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে আসে। এতে আর্টেমিস ২-এর গুরুত্ব একটুও কমে যায় না। বরং এটি অভিযানটিকে আরও 'বাস্তব' করে তোলে।
