রোবট কুকুর কোনো নতুন উদ্ভাবন নয়, কিন্তু এমন একটি যা আপনার কথা শুনতে পারে, তা কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনায়। বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন যে তারা ইতিমধ্যেই একটি তৈরি করেছেন, এবং এটি অন্ধদের সাহায্য করার জন্য তৈরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত রোবটিক গাইড ডগ সিস্টেমের বর্ণনা দিয়েছে, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের অভ্যন্তরীণ স্থানে চলাচলে সাহায্য করার পাশাপাশি যাত্রাপথে তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্যও ডিজাইন করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম), বিশেষত জিপিটি-৪ (GPT-4 ), ব্যবহার করে রোবটটিকে একটি প্রচলিত গাইড ডগের চেয়ে অনেক বেশি কথোপকথনক্ষম ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।
এআই গাইড ডগ কীভাবে কাজ করে?
বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এই সিস্টেমটি তৈরি করেছেন স্কুল অফ কম্পিউটিং-এর সহযোগী অধ্যাপক শিকি ঝাং এবং তার দল। ঝাং বলেছেন যে, এই প্রকল্পটি দেখায় কীভাবে রোবটিক গাইড কুকুরগুলো আসল গাইড কুকুরের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে, যারা কেবল অল্প কিছু নির্দেশই বুঝতে পারে।
ভয়েস কমান্ডের সাথে GPT-4 ব্যবহার করে, এই এআই-চালিত রোবট কুকুরটি আরও শক্তিশালী কথোপকথন ক্ষমতা অর্জন করে। এই ব্যবস্থাটির উদ্দেশ্য শুধু ব্যবহারকারীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়া নয়। যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই, রোবটটি সম্ভাব্য পথ এবং আনুমানিক ভ্রমণের সময় বর্ণনা করতে পারে। যাত্রাপথে, এটি গবেষকদের ভাষায় “দৃশ্য বর্ণনা” (scene verbalization) প্রদান করে, যা পরিবেশ এবং সামনের বাধা সম্পর্কে রিয়েল-টাইম মৌখিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত একটি উদাহরণে, এআই গাইড কুকুরটি ব্যবহারকারীকে একটি কনফারেন্স রুমে নিয়ে যাওয়ার সময় বলতে পারে, “এটি একটি লম্বা করিডোর”।
এটি ইতিমধ্যেই দৃষ্টিহীন অংশগ্রহণকারীদের উপর পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিস্টেমটি মূল্যায়ন করার জন্য, গবেষকরা সাতজন আইনত দৃষ্টিহীন অংশগ্রহণকারীকে নিয়োগ করেন এবং তাদের একটি বড়, বহু-কক্ষবিশিষ্ট অফিস পরিবেশে চলাচল করতে দেন। এরপর অংশগ্রহণকারীরা সিস্টেমটির সহায়কতা, উপযোগিতা এবং যোগাযোগের সহজলভ্যতাকে রেটিং দিয়ে একটি প্রশ্নাবলী পূরণ করেন। আর ফলাফল কী? ব্যবহারকারীরা পথ পরিকল্পনার ব্যাখ্যার সাথে ভ্রমণের সময় সরাসরি বর্ণনার সম্মিলিত পদ্ধতিটি বেশি পছন্দ করেছেন।
এর মূল উদ্দেশ্য শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া নয়—বরং ব্যবহারকারীদের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা এবং কোনো পরিসরে তাদের চলাচলের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। আর ঠিক যেমনভাবে পোষা প্রাণী খুঁজে বের করতে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে , এটিও এআই সম্পর্কিত সেইসব ইতিবাচক খবরগুলোর মধ্যে একটি।