কিছুদিন আগে, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো ভরে গিয়েছিল, যেখানে তারা অভিযোগ করেন যে প্ল্যাটফর্মটি তাদের ৯০-সেকেন্ডের, স্কিপ করা যায় না এমন বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অভিযোগ ছিল না। একাধিক দর্শক একই ধরনের রিপোর্ট ও স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন, এবং সকলেই উল্লেখ করেছেন যে প্লেয়ার UI-তে “৯০+ সেকেন্ড” পর স্কিপ করার অপশন দেখাচ্ছিল।
এখন, সংস্থাটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে ওই ৯০-সেকেন্ডের স্কিপ-অযোগ্য বিজ্ঞাপনগুলো আসল নয়, কিন্তু তাহলে মানুষ সেগুলো দেখছে কেন? ৯০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিতর্ক নিয়ে ইউটিউবের প্রতিক্রিয়া কোনোভাবে বিষয়টিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে।
তাহলে, ইউটিউব কি ৯০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে?
ইউটিউব আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনগুলোর জবাব দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, তারা স্কিপ করা যায় না এমন ৯০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিরতি ব্যবহার করে না এবং এই ফরম্যাটটি সক্রিয়ভাবে পরীক্ষাও করছে না। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে তারা “বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে,” যা থেকে আমরা খুব বেশি কিছু জানতে পারি না।
ঐ উত্তরটার সমস্যা হলো: এটা কিছুই ব্যাখ্যা করে না। যদি ৯০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বলে কিছু না থাকে, তাহলে কেন এত ব্যবহারকারী একই সময়ে একই অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন?
এটা একটা বাগ হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমি কোম্পানির জবাবে বিশ্বাস করতে পারছি না। হয়তো তারা জনসাধারণের আগ্রহ যাচাই করার জন্য পরীক্ষা করছিল, এবং এর তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণেই তারা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করছে। আর যদি এটি ভুলবশত চালু হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেটাও পরীক্ষা থেকে আলাদা কিছু নয়, শুধু এমন একটি পরীক্ষা যা এখনও জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করার কথা ছিল না।
এর মানে আপনার জন্য কী?
আপাতত, কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই। ইউটিউব নিশ্চিত করেছে যে ৯০ সেকেন্ডের স্কিপ-অযোগ্য বিজ্ঞাপনগুলো ইচ্ছাকৃত কোনো ফিচার নয়, কিন্তু এগুলো প্রথম কীভাবে প্রদর্শিত হতে শুরু করল, সে বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আমরা যা জানি তা হলো, ইউটিউব ধীরে ধীরে দীর্ঘতর এবং স্কিপ করা যায় না এমন বিজ্ঞাপনের প্রসার ঘটাচ্ছে। গত বছর ৩০-সেকেন্ডের স্কিপ-অযোগ্য বিজ্ঞাপন চালু করা হয়েছিল। ৯০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনই এর পরবর্তী স্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু এই প্রতিবেদনগুলোর সময়কালকে উপেক্ষা করা কঠিন।
আপনি যদি ইউটিউব প্রিমিয়াম বা প্রিমিয়াম লাইট সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন এবং ইউটিউবে এই নতুন, দীর্ঘ ও স্কিপ-অযোগ্য বিজ্ঞাপনগুলো দেখেন, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হোন, যাতে ইউটিউব বুঝতে পারে যে এই পথে হাঁটা তাদের উচিত নয়।