সম্প্রতি ম্যাকবুক নিও এবং এম৫ ম্যাকবুক এয়ার বাজারে আনার পর, অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের ম্যাকগুলো কোম্পানির সাম্প্রতিক সাফল্যের জোয়ারে ভাসবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন একটি নতুন প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে, এটি ডিজাইন, চিপ বা সফটওয়্যার নয়। এটি হলো মেমোরি। আর হ্যাঁ, এর একটি বড় কারণ হলো এআই।
অ্যাপলের পরবর্তী ম্যাকগুলো আসতে দেরি হতে পারে।
ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যানের মতে, শিল্পজুড়ে মেমোরির ঘাটতির কারণে অ্যাপলের আসন্ন ম্যাক লঞ্চগুলো পিছিয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ম্যাক স্টুডিও এবং নতুন ডিজাইনের টাচ-স্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো। ম্যাক স্টুডিওর রিফ্রেশ, যা মূলত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আসার কথা ছিল, তা এখন অক্টোবর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।
পরিস্থিতিটা শুধু তাত্ত্বিকও নয়। অ্যাপল ইতিমধ্যেই তাদের বর্তমান মেমোরি-নির্ভর মেশিনগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে, যা আরও বেশি চাহিদাসম্পন্ন পরবর্তী প্রজন্মের হার্ডওয়্যার বাজারে আনাকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে পরিণত করেছে। অভ্যন্তরীণভাবে এই উদ্বেগ রয়েছে যে, স্থিতিশীল সরবরাহ ছাড়া নতুন ম্যাক বাজারে আনলে শুরুতেই এর প্রাপ্যতা সীমিত হয়ে যেতে পারে, যা অ্যাপল সাধারণত কঠোরভাবে এড়ানোর চেষ্টা করে।
কারণটা খুবই সহজ: বর্তমানে অধিক মেমোরি-নির্ভর মডেলগুলোর চালান ইতিমধ্যেই বিলম্বিত হচ্ছে, এবং আরও উন্নত চাহিদাসম্পন্ন নতুন মেশিনগুলোও একই প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। আর এখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ভূমিকা শুরু হয়। ডেটা সেন্টার, জিপিইউ (GPU), এবং হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং-এর মতো এআই ওয়ার্কলোডের দিকে ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপক ঝোঁক উন্নত মেমোরির চাহিদাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই চাহিদা এখন ম্যাকের মতো কনজিউমার ডিভাইসসহ সব ক্ষেত্রেই সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে, এটা শুধু অ্যাপলের সমস্যা নয়।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখলে, এটা অ্যাপলের কোনো ব্যর্থতা নয়। বরং সরবরাহ শৃঙ্খলটি চাপের মুখে ভেঙে পড়ছে। এআই সার্ভার এবং এন্টারপ্রাইজ হার্ডওয়্যার উচ্চ-ব্যান্ডউইথের মেমরি গ্রাস করছে, ফলে অন্য সবকিছুর জন্য জায়গা কমে আসছে। অ্যাপলের জন্য এই সময়টা বিশেষভাবে অস্বস্তিকর। ম্যাক ব্যবসা আবার গতি পাচ্ছিল, এবং যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের আপগ্রেড বিলম্বিত করাটা কোম্পানিটি কোনোভাবেই চায় না। কিন্তু একই সাথে, সীমিত সরবরাহ নিয়ে পণ্য বাজারে আনাটা তর্কসাপেক্ষে আরও খারাপ।
এখানের বৃহত্তর চিত্রটি বেশ স্পষ্ট। এআই শুধু সফটওয়্যারই পরিবর্তন করছে না, বরং হার্ডওয়্যারের অগ্রাধিকারগুলোকেও নতুন রূপ দিচ্ছে।
