বছরের পর বছর ধরে গুগলের ফটোস অ্যাপ এমন কিছু কাজ করে আসছে যা অ্যাপলের ফটোস অ্যাপ করতে পারত না, এবং আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যান তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছেন যে, আইওএস ২৭ , আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস ২৭-এর ফটোস এডিটিং ইন্টারফেসের ভেতরে একটি বিশেষ “অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স টুলস” সেকশন থাকবে।
“অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স টুলস” বিভাগে তিনটি নতুন এআই-চালিত ফটো-এডিটিং ফিচার অন্তর্ভুক্ত হবে: এক্সটেন্ড, এনহ্যান্স এবং রিফ্রেম। ফিচারগুলো আসলে কী কাজ করে, তা বলার আগে বলে রাখি, এগুলোর সবগুলোই সম্পূর্ণভাবে ডিভাইসের ভেতরেই চলবে এবং অ্যাপলের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এডিটের কাজ সম্পন্ন করবে।
অ্যাপলের নতুন ইন্টেলিজেন্স ফটো এডিটিং টুলগুলো কী করবে?
এক্সটেন্ড, নাম শুনেই যেমনটা বোঝা যায়, নতুন চিত্র তৈরি করে এবং সেটিকে বিদ্যমান চিত্রের সাথে নির্বিঘ্নে জুড়ে দিয়ে একটি ছবির সীমানা প্রসারিত করে। এই ফিচারটি ব্যবহার করে আপনি ক্লোজ-আপ শটে চারপাশের কিছু অংশ যোগ করতে অথবা মূল বিষয়বস্তুর দুই পাশে কিছু নেগেটিভ স্পেস যোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, Enhance একটি ওয়ান-ট্যাপ এনহ্যান্সমেন্ট বাটন হিসেবে কাজ করে, যা বিভিন্ন এডিটিং অপশনে না গিয়ে বা নানা স্লাইডার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করেই তাৎক্ষণিকভাবে ছবির রঙ, আলো এবং সার্বিক মান ঠিক করে দেয়।
রিফ্রেম মূলত ভিশন প্রো হেডসেটের জন্য তোলা স্থানিক ছবির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ব্যবহারকারীদের একটি 3D ছবি তোলার পরেও তার দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন করতে দেয়, যার ফলে সম্মুখ-দৃশ্য থেকে পার্শ্ব-দৃশ্যে যাওয়া যায়।
অ্যাপল কি আসলেই তিনটি ফিচারই প্রকাশ করতে প্রস্তুত?
এই মুহূর্তে নয়। গুরম্যানের মতে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় এক্সটেন্ড এবং রিফ্রেম উভয় ফিচারই অসঙ্গত ফলাফল দিচ্ছে। যদি সেপ্টেম্বরের লঞ্চ ইভেন্টের আগে অন্তর্নিহিত এআই মডেলগুলো খাপ খাইয়ে না নেয় বা ফলাফলের উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হয়, তবে অ্যাপল এগুলোর প্রকাশ বিলম্বিত করতে পারে বা সীমিত করতে পারে।
যদিও আমি নিজে অ্যাপল ফটোস অ্যাপের একজন বড় ভক্ত, বর্তমানে এতে কেবল একটিই এআই-ভিত্তিক এডিটিং ফিচার রয়েছে, যার নাম ক্লিন আপ, এবং সেটি গ্যালাক্সি এস বা পিক্সেল ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের মতো অন্যান্য স্মার্টফোনের ফিচারের মতো ততটা ভালোভাবে কাজ করে না।
আমার মনে আছে, ২০২৩ সালে গুগল যখন তাদের ম্যাজিক জেডএডিটর (Magic zeditor) প্রকাশ করেছিল, তার পরের বছরগুলোতে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এআই (Galaxy AI) বেশ আগ্রাসীভাবেই এসেছিল। এর জবাবে, অ্যাপল বড়জোর ক্লিন আপ (Clean Up) ফিচারটিই নিয়ে আসতে পেরেছিল। আমার মতে, অ্যাপলের এক্সটেন্ড (Extend), এনহ্যান্স (Enhance) এবং রিফ্রেম (Reframe) ফিচারগুলো কার্যকর হওয়াটা সত্যিই প্রয়োজন; এবং তা WWDC ২০২৬- এ প্রদর্শনী ও সেপ্টেম্বরে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশের আগেই হওয়া দরকার।
