যদি আপনি কখনও গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রল করতে করতে ঘুম থেকে উঠে তার ফলে আরও খারাপ অনুভব করে থাকেন, তবে আপনি ভুল ভাবছেন না। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, কেন এত বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী অপর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্রমাবনতিশীল মানসিক স্বাস্থ্যের এক চক্রে আটকে পড়েছেন বলে মনে হয়।
গবেষকরা জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক ক্ষেত্র জুড়ে ২৯টি আন্তঃসংযুক্ত কারণ এবং ১৭৫টি কার্যকারণ সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন, যা ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের মানসিক যন্ত্রণার এমন এক দুষ্টচক্রে আটকে ফেলতে পারে, যাকে তারা স্ব-শক্তিবর্ধক হিসেবে বর্ণনা করেছেন ( ইউরাকঅ্যালার্ট- এর মাধ্যমে)।
স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস কীভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে?
গবেষণায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, বিশেষ করে রাতে, শুধু বিচ্ছিন্নভাবে আপনার ঘুমের ওপরই প্রভাব ফেলে না। এটি একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা কোনো এআই-এর সাথে চ্যাটিংয়ে বেশি সময় কাটানো মুখোমুখি আলাপচারিতা কমিয়ে দেয়, যা একাকীত্বকে আরও গভীর করে তোলে ।
এই একাকীত্ব বিষণ্ণতার লক্ষণগুলোকে উস্কে দিতে পারে, যা ফলস্বরূপ আপনাকে আরও বেশি করে ফোনের দিকে ঠেলে দেয়। এদিকে, রাতে স্ক্রিন ব্যবহার ঘুমের গুণমান নষ্ট করে , এবং অপর্যাপ্ত ঘুম বিষণ্ণতার লক্ষণগুলোকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা এমন একটি চক্র তৈরি করে যা নিজেকেই আরও বাড়িয়ে তোলে।
গবেষকরা দেখেছেন যে, গভীর রাতে স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার অভ্যাস অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের দিকেও চালিত করে, এবং মানুষ মন খারাপ ও ক্লান্তি মোকাবেলার উপায় হিসেবে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাবের সাথে মিলিত হয়ে, ওজন বৃদ্ধি এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা বিষণ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
কেন একটি খারাপ অভ্যাস সংশোধন করাই চক্র ভাঙার জন্য যথেষ্ট নয়
গবেষকরা সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছেন যে এই মডেলটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। এটি প্রতিটি সম্ভাব্য প্রভাবকে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং ১৭৫টি সংযোগের সবকটির ওপর এখনো পদ্ধতিগত গবেষণা পরিচালিত হয়নি। আপনি অনলাইনে উপলব্ধ একটি ইন্টারেক্টিভ সংস্করণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মডেলটি অন্বেষণ করতে পারেন।
এর থেকে যে বিষয়টি পরিষ্কার হয় তা হলো, কেন একজন তরুণ-তরুণীকে শুধু ফোনটা রেখে দিতে বা তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে বললে তা খুব কমই কাজ করে। সমস্যাটা কোনো একটি খারাপ অভ্যাস নয়। এটি অভ্যাস, আবেগ এবং পরিস্থিতির এক জটিল জাল, যা একে অপরকে এমনভাবে শক্তিশালী করে তোলে যে একা একা এর জট ছাড়ানো সত্যিই কঠিন।
