ওয়্যারলেস ইয়ারবাড শীঘ্রই আপনার হৃদস্পন্দনের মাধ্যমে আপনাকে শনাক্ত করতে পারে।

বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ এখন আর শুধু আঙুলের ছাপ এবং মুখ খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গবেষকরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, আপনার ইয়ারবাডগুলো শুধুমাত্র আপনার হৃদস্পন্দনের ফলে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কম্পন শুনেই আপনাকে চিনতে পারে কি না।

arXiv প্রিপ্রিন্ট সার্ভারে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্রে “অ্যাকলক” (AccLock) নামক একটি প্যাসিভ অথেনটিকেশন সিস্টেমের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করার জন্য সাধারণ ইয়ারফোন হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে। মাইক্রোফোন বা ভয়েস প্রম্পটের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে, এই সিস্টেমটি অনেক আধুনিক ইয়ারবাডে আগে থেকেই থাকা বিল্ট-ইন অ্যাক্সেলেরোমিটারের মাধ্যমে কাজ করে।

আপনার হৃদস্পন্দনই হতে পারে আপনার পরবর্তী পাসওয়ার্ড।

এই প্রযুক্তি কানের ভেতরের নালীতে হৃৎস্পন্দন-জনিত কম্পন শনাক্ত করে, যা ব্যালিস্টোকার্ডিওগ্রাফি (বিসিজি) সংকেত নামে পরিচিত। এই সংকেতগুলো হাড় ও টিস্যুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র নকশা তৈরি করে। এই অনন্যতাই সিস্টেমটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। ইয়ারবাডগুলো একবার কোনো ব্যবহারকারীর বিসিজি সংকেত শনাক্ত করলে, সেগুলো ক্রমাগত পরীক্ষা করতে পারে যে সেই একই ব্যক্তি এখনও ইয়ারবাডগুলো পরে আছেন কি না। যদি অন্য কোনো ব্যবহারকারী ইয়ারবাডগুলো পরেন, তাহলে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়।

পুরোনো ইয়ারফোন-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ সিস্টেমের মতো নয়, AccLock-এর জন্য ব্যবহারকারীদের ডিভাইসের সাথে সক্রিয়ভাবে ইন্টারঅ্যাক্ট করার প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নীরবে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, যার ফলে ডিভাইস আনলক করা, পেমেন্ট অনুমোদন করা বা স্মার্ট হোমে প্রবেশের মতো কাজগুলো শেষ পর্যন্ত প্রায় অদৃশ্য মনে হতে পারে।

এটা ভালোই কাজ করে — যতক্ষণ না এতে অতিরিক্ত নড়াচড়া হয়।

নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য, গবেষকরা পরিবেশগত কোলাহল এবং সাধারণ শারীরিক নড়াচড়া থেকে ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট হৃদস্পন্দনের ধরণকে আলাদা করতে একটি ডিপ লার্নিং মডেল এবং একটি বহু-পর্যায়ের ডিনয়েজিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন। ৩৩ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা পরীক্ষায়, সিস্টেমটি যথাক্রমে ৩.১৩% এবং ২.৯৯% মিথ্যা গ্রহণযোগ্যতা ও মিথ্যা প্রত্যাখ্যানের হার অর্জন করেছে, যা একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপের জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক।

তবে, অতিরিক্ত নড়াচড়া একটি বড় সমস্যা হয়েই আছে। হাঁটা, কথা বলা বা মাথা নাড়ানোর ফলে ভুলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে বাস্তব পরিস্থিতিতে সিস্টেমটি এখনও হিমশিম খায়। গবেষকরা অ্যাপল এয়ারপডেও এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এটি কার্যকর ছিল। যদিও AccLock আজ একটি বাণিজ্যিক ফিচার হয়ে ওঠা থেকে অনেক দূরে, এটি এমন এক ভবিষ্যতের আভাস দেয় যেখানে আপনার ফোন আনলক করার আগেই আপনার ইয়ারবাডগুলো নীরবে আপনাকে চিনে নেবে।